রোহিঙ্গা ক্যাম্প আইসিসির প্রতিনিধি দল

0
533

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) ও শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা ও ভিকটিমদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করার খবর পাওয়া গেছে। বৈঠকে উপস্থিত রোহিঙ্গারা জানান, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মিয়ানমার ফেঁসে যেতে পারে।

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার ইলিয়াস জানান, শুক্রবার দুপুরে আইসিসি প্রতিনিধি দলের দুই সদস্য রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। কুতুপালং-১নং ইস্ট ক্যাম্পের সরকারি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। শনিবার সকার ১০-১২টা পর্যন্ত বৈঠকে উখিয়া ও টেকনাফের সকল ক্যাম্প থেকে দুই জন করে প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করে।

শনিবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কুতুপালং-২ নং ক্যাম্পের সরকারি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে।

অপরদিকে, শনিবার সকালে একইভাবে কুতুপালং-১ ইস্ট ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা ও মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক বাহিনীর হাতে নির্যাতিত ভিকটিমদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে আলোচিত রোহিঙ্গাদের সংগঠন এআরএসপিএইচ চেয়ারম্যান মহিবুল্লাহসহ রোহিঙ্গা নেতারা ছিলেন বলে রোহিঙ্গারা জানান। বৈঠকে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত মানবতার বিরোধী অপরাধের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।

বৈঠকে আইসিসি এর ভিকটিম পার্টিসিপেশন্স অ্যান্ড রিপ্রেসন্স সেকশন (ভিপিআরএস) ফিল্ড কো অর্ডিনেটর গ্যাবরিয়েলা গনজালেজ রিভাস, আইসিসির অ্যাসোসিয়েট লিগ্যাল অফিসার ওলিভিয়ার রেনডন ও অফিসার
এইনা একসেইনড্রা দাবিদ উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। ইতিপূর্বে রোহিঙ্গাদের সাথে অনুষ্ঠিত একাধিকবার বৈঠকের ফলোআপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, আইসিসি এর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ভিকটিমদের কাছে ইংরেজি ও বার্মিজ ভাষায় মুদ্রিত সুনির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তর সম্বলিত ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। গত অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ এসব ফর্ম পূরণ করে রোহিঙ্গা ভিকটমরা আইসিসি প্রতিনিধিদের কাছে জমা দিয়েছিলেন। হাজারের বেশি অভিযোগপত্রে রোহিঙ্গারা তাদের ওপর কোন তারিখ, কখন, কোথায়, কি ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল। অপরাধের ধরনের স্বপক্ষে অডিও, ভিডিও বা ছবি ও অন্যান্য প্রমাণও সংযোজন করা হয়েছিল বলে রোহিঙ্গারা জানান।

মূলত পূর্বে দেয়া অভিযোগসমূহের পুনঃমূল্যায়নের জন্য এ বৈঠক বলে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার নুরুল আলম জানান। আগামী মাসে অর্থাৎ জানুয়ারিতে এসব অভিযোগপত্রের ব্যাপারে আরও গভীরভাবে নিরীক্ষার জন্য আইসিসির জুরি এক্সপার্ট টিম আসার কথা জানিয়েছেন প্রতিনিধি দল। রোহিঙ্গাদের অভিমত বর্তমানে গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় আইসিজে আদালতে চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আইসিসি আদালতে মিয়ানমারের সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে যুদ্ধাপরাধের মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংগঠিত নানা অপরাধ ও নির্যাতনের ফরেনসিক রিপোর্ট সংগ্রহ কাজও সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়তায় যুদ্ধাপরাধে জড়িত মিয়ানমারের সেনাদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া অনেকটা এগিয়েছে বলে রোহিঙ্গাদের দাবি। সবকিছু মিলিয়ে মিয়ানমার মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন রোহিঙ্গারা।

মন্তব্য দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here