সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের উত্তেজনা আলোচনা করবেন পুতিন ও মেরকেল

0
439

মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নতুন উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করতে রাশিয়া যাচ্ছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ডাকে আগামী ১১ জানুয়ারি মস্কো যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার রুশ প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম শাখার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ক্রেমলিন বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিনের আমন্ত্রণে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল রাশিয়া আসছেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ছাড়াও সিরিয়া, লিবিয়া ও ইউক্রেন নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন এ দুই নেতা।

মেরকেলের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে মস্কো টাইমস এক প্রতিবেদনে বলছে, জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস চ্যান্সেলর মেরকেলের সঙ্গে রাশিয়া সফর করবেন।

ইরানিদের কাছে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে পরিচিত কাসেম সোলেইমানিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয়। গত ২৩ বছর দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, দেশে জাতীয় বীর হলেও ইরানি এই সামরিক কমান্ডারকে সন্ত্রাসী হিসেবে মনে করতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাকে হত্যার পক্ষে সাফাই গেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন সোলেইমানি।

ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ওয়াশিংটন-তেহরানের এ উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অশনিসংকেত পাচ্ছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৫২টি স্থাপনা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিশানায় রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ইরান জেনারেল সোলেইমানি হত্যার জবাব যথাসময়ে, উপযুক্ত পরিবেশে সামরিক উপায়ে দেয়া হবে বলে পাল্টা হুমকি দিয়েছে।

কুদস ফোর্সের এই প্রধান মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর রোববার রাতে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির শর্ত না মানার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়ারও অঙ্গীকার করেছে ইরান।

দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের প্রধানের মরদেহ তেহরানে পৌঁছায় সোমবার সকালে। ইরানের শীর্ষ এই জেনারেলের মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের রাস্তায় নামে লাখো জনতা ঢল।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে টেলিফোন করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এ সময় তারা সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন।

মস্কো টাইমস বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে নিজ থেকে টেলিফোন করেছেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। টেলিআলাপনে এ দুই রাষ্ট্রনেতা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ সেখানকার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে বলে একমত হন।

মন্তব্য দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here